৭ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ১ম অধ্যায় সৃজনশীল

আপনি কি ৭ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ১ম অধ্যায় সৃজনশীল খুজতেছেন? তাহলে আজকের আর্টিকেল টি আপনার জন্য। আজকের আর্টিকেলে ৭ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ১ম অধ্যায় সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরি করি।


৭ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় ১ম অধ্যায় সৃজনশীল

প্রশ্ন ০১: অনুপম তার বাবাকে বলে, বাবা কাল সোমবার ২১শে ফেব্রুয়ারি। তুমি আমার জন্য লাল ফিতা, গেঞ্জি ও বুট জুতা নিয়ে আসবে। বাবা বলে, তুমি কি জান এ দিবস কীভাবে এসেছে? অনুপম বলেন, ভাষা আন্দোলনের ফলেই ২১শে ফেব্রুয়ারি এসেছে। বাবা আক্ষেপের সাথে বলেন, এ দিবসের পিছনে লাল ফিতা, গেঞ্জি জড়িত নয়; ব্রং রক্ত! রক্ত আর রক্ত!

ক. UNESCO কত সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে?
খ. ভাষা আন্দোলনের পিছনে কাদের ভূমিকা অগ্রগণ্য? ব্যাখ্যা কর।
গ. অনুপমের বাবা কেন রক্ত! রক্ত! রক্ত! বলে আক্ষেপ করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “ভাষা আন্দোলনের ফলেই ২১শে ফেব্রুয়ারি” এসেছে— অনুপমের উক্তিটি তুমি কীভাবে বিশ্লেষণ করবে? মতামত দাও।

৪নং প্রশ্নের উত্তর

ক) IT UNESCO ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে।

খ) ভাষা আন্দোলনের পিছনে কাজী গোলাম মাহবুব, শওকত আলী, গাজীউল হক, মোহাম্মদ তোয়াহা, আব্দুল মতিন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ ব্যক্তির ভূমিকা অগ্রগণ্য। ১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ ভাষার দাবিতে সমগ্র দেশে ধর্মঘট ডাকা হলে অলি আহাদ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, কাজী গোলাম মাহবুবসহ অধিকাংশ নেতা গ্রেফতার হন। পুলিশের দমন-পীড়নে বহু ছাত্রছাত্রী মারাত্মক আহত হন। সর্বোপরি রফিক, জব্বার ও আবুল বরকতসহ আরও অনেকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তাই বলা যায়, মহান ভাষা আন্দোলনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

গ) ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস রক্তে রঞ্জিত বলেই মূলত অনুপমের বাবা আক্ষেপ করেছিলেন। ২১শে ফেব্রুয়ারি আমাদের মাঝে রাঙালি জাতির রক্তের আন্দোলনের মাধ্যমেই এসেছে। বাঙালিরা তাদের রক্তকে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য রাজপথে নেমে আসে। বিনিময়ে তারা চায় মায়ের ভাষা ‘বাংলা’কে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে।

উদ্দীপকে অনুপম তার বাবাকে লাল ফিতা আর গেঞ্জি আনতে বলে, যা দিয়ে সে একুশে ফেব্রুয়ারি উদযাপন করবে। কিন্তু অনুপমের বাবা সেগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, রক্ত! রক্ত আর রক্ত! অনুপমের বাবার এ আক্ষেপের কারণ আমাদের ভাষা আন্দোলনের রক্তরঞ্জিত ইতিহাস। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য তীব্র আন্দোলন গড়ে তুললেও বাঙালিদের অদম্য সাহস ও তেজস্বিতার কাছে তারা হেরে যায়।

এভাবে বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার্থে বাঙালি ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলন গড়ে তোলে এবং বুকের রক্ত দিয়ে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করে। তাই অনুপমের ‘উক্তিতে বাবা আক্ষেপ করে তার হৃদয়ক্ষত ভাবাবেগ প্রকাশ করেন।

ঘ) ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনই যে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ করেছে তা অনুপমের উক্তিতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ভাষা আন্দোলনের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ হলো ২১শে ফেব্রুয়ারি তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

কেননা বাঙালির দীর্ঘ আন্দোলনকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই ২১শে ফেব্রুয়ারি দিবসটি পালিত হয়। সেজন্য বলা চলে, অনুপমের আলোচ্য উক্তি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। মাতৃভাষার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগকে স্মরণ করে এ মহান আন্দোলনকে শ্রদ্ধা জানায় বিশ্ববাসী।

১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ইউনেস্কো (UNESCO) ২১শে ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এভাবেই ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের ঘটনা থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারির আত্মপ্রকাশ ঘটে। তাই তো বলা চলে, ভাষা আন্দোলন ছাড়া ২১শে ফেব্রুয়ারি কল্পনাতীত।

তাছাড়া ভাষা আন্দোলনের যদি সূত্রপাত না ঘটত তাহলে ২১শে ফেব্রুয়ারি এভাবে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত হতো না। তাই তো ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনেরই ফসল। সুতরাং অনুপমের উক্তিটি ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ ও সার্থক।

প্রশ্ন ০২: ফয়েজ সাহেব একটি স্কুলের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের শিক্ষক। ক্লাস চলাকালীন সময়ে আজীজ নামে এক ছাত্র প্রশ্ন করে, “স্যার, যুক্তফ্রন্ট কেন গঠিত হয়েছে?” জনাব ফয়েজ সাহেব বলেন, ১৯৫৪ সালে জাতি যখন একটি ক্লান্তিকর মুহূর্ত অতিক্রম করছিল তখন মুসলিম লীগকে পরাজিত করে বাঙালিদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। অন্যদিকে, মুসলিম লীগ তাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানুষের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি বিধায় লোকেরা তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে।

ক. কে পাকিস্তানের গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে প্রস্তাব করেন?
খ. ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয় মূলত কেন? ব্যাখ্যা কর।
গ. ফয়েজ সাহেব মুসলিম লীগের পরাজয় ও যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে কীভাবে যৌক্তিক হিসেবে উপস্থাপন করেছেন? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ফয়েজ সাহেবের বক্তব্যের আলোকে যুক্তফ্রন্টের গুরুত্ব মূল পাঠের আলোকে বিশ্লেষণ কর।

২নং প্রশ্নের উত্তর

ক) ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পাকিস্তানের গণপরিষদে রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে প্রস্তাব করেন।

খ) ১৯৬৯ সালে সংঘটিত আন্দোলন ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। সকল গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এ আন্দোলনে যুক্ত হয়। এ আন্দোলনে যুক্ত হতে গিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা শহিদ হন। আসাদ নিহত হওয়ার পরই এ আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়.। প্রদেশব্যাপী ছাত্র, শিক্ষক, কৃষক, শ্রমিকসহ সকল শ্রেণি- পেশার মানুষ তখন রাস্তায় নেমে আসে। অবশেষে ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান শেখ মুজিবকে, নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন এবং আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

গ) ফয়েজ সাহেবের উপস্থাপনায় মুসলিম লীগের পরাজয় ও যুক্তফ্রন্টের বিজয়ী হওয়ার বিষয়টি যুক্তিযুক্তভাবে উপস্থাপিত হয়েছে। মুসলিম লীগ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা ও অপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দল।

মুসলিম লীগের পশ্চিম পাকিস্তানের নেতারা পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। এ বৈষম্যমূলক আচরণই তাদের ভিতকে দুর্বল করে দেয়। এছাড়াও তাদের দুঃশাসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শোষণ, দলের মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব, দুর্নীতি ইত্যাদি কারণে যুক্তফ্রন্টের কাছে তাদের পরাজয় নিশ্চিত হয়।

কেননা যুক্তফ্রন্টের ২১ দফা কর্মসূচি মানুষের আশার আলোতে পরিণত হয়। তাই তো গণবিচ্ছিন্ন নেতাকর্মীরা যুক্তফ্রন্টের কর্মীদের প্রচারাভিযানের জোয়ারে ভেসে যায়। আর এভাবেই যুক্তফ্রন্ট বিজয় লাভ করে।

অর্থাৎ পূর্ব বাংলার সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম লীগের পরাজয় এবং যুক্তফ্রন্টের বিজয় ছিল অবশ্যম্ভাবী। সুতরাং ফয়েজ সাহেবের উপস্থাপনা যৌক্তিক ছিল।

ঘ) ফয়েজ সাহেবের বক্তব্যে যুক্তফ্রন্টের গুরুত্ব বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে। ভাষা আন্দোলন ফলপ্রসূ হওয়ার পথ ধরে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম বিজয় সূচিত হয় ১৯৫৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে। এ ফ্রন্টের উন্মেষের মাধ্যমে বাংলার জাগ্রত জনতা তৎকালীন মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম গড়ে তুলে পার্লামেন্টারি গণতন্ত্রের এক নব অধ্যায় সূচনা করে।

উদ্দীপকে ফয়েজ সাহেবও বলেছেন, বাঙালি জাতি যখন মুসলিম লীগের পাটাতনে নিষ্পেসিত হয়, ঠিক তখনই যুক্তফ্রন্ট মানুষের মুক্তি ঘটায়। কেননা এ যুক্তফ্রন্টের মাধ্যমেই মুসলিম লীগের স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে। অসাম্প্রদায়িক চিন্তাচেতনার বিকাশ ঘটে। শুধু তাই নয়, পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ হয়।

পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিকটি তা বুঝতে পারে। এর ফলে তারা ১৯৫৬ সালের সংবিধানে উর্দুর পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দান করে। সুতরাং যুক্তফ্রন্টের ‘গুরুত্বের ওপর ফয়েজ সাহেবের বক্তব্য ছিল সঠিক ও তাৎপর্যপূর্ণ।


আশাকরি আজকের আর্টিকেল টি ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

আমি মেরাজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পাশাপাশি একজন ব্লগার। এডুকেশন এর প্রতি ভালোবাসাও অনলাইল শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর জন্য এডুকেশন ব্লগের পথচলা। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড সকল কাজ করি।

Check Also

মেঘনাদবধ কাব্য কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর

মেঘনাদবধ কাব্য কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর

আপনি কি মেঘনাদবধ কাব্য কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর খুজতেছেন? আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের জন্য। আজকের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *