সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য সম্পাদক বরাবর পত্র লেখার নিয়ম

সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ করার জন্য সম্পাদক বরাবার পত্র বা চিঠি লিখতে হয়। এরপর সম্পাদক সেই প্রতিবেদন টি তার পত্রিকায় প্রকাশ করে। আপনি যদি পত্রিকার প্রতিনিধি না হন বা স্টাফ রিপোর্টার না হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার প্রতিবেদন সংবাদ পত্রে প্রকাশের জন্য সম্পাদক বরাবর চিঠি পাঠাতে হবে।

আসসালামু আলাইলুম, কেমন আছেন সবাই? আশাকরি সবাই ভালো আছেন। আপনি যদি প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সম্পাদক বরাবর পত্র লেখার নিয়ম বা প্রতিবেদন লেখার নমুনা খুজে থাকেন তাহলে আজকের আর্টিকেল টি আপনার জন্য।

আজকের আর্টিকেলে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন লেখার নিয়ম বা প্রতিবেদন লেখার নমুনা শেয়ার করা হবে, কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।

প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য সম্পাদক বরাবর পত্র লেখার নিয়ম

  • পত্রের শুরুতেই তারিখ লিখতে হবে।
  • এরপর আবেদন পত্রের মত “বরাবর”, এবং এরপর সম্পাদক লিখতে হবে।
  • এবার আপনি যে পত্রিকায় প্রকাশ করতে চাচ্ছেন সেই পত্রিকার নাম ও পত্রিকার ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
  • এরপর জনাব লিখে পত্রিকার নাম ও আপনার প্রতিবেদন এর শিরোনাম সহ একটি ক্ষুদে বার্তা লিখতে হবে।
  • এবারে আপনার নাম ও ঠিকানা লিখতে হবে।
  • উপরের বিষয় গুলো সম্পন্ন করার পর প্রতিবেদন এর শিরোনাম লিখে নিচের লাইন থেকে প্রতিবেন লেখা শুরু করতে হবে।
  • প্রতিবেদন লেখা শেষ হলে পূনরয় আপনার নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
[sp_easyaccordion id=”339″]

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নিরসনের উপায় সম্পর্কে দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশার্থে সম্পাদকের নিকট পত্র।

১৯/০১/২০২২
বরাবর,
সম্পাদক,
দৈনিক জনকণ্ঠ
নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিক জনকণ্ঠ’ পত্রিকায় ‘শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নিরসনের উপায়’ শিরোনামে নিম্নলিখিত মতামতটি প্রকাশ করে সুশীল সমাজ এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়তা করলে কৃতজ্ঞ হব।

বিনীত
রিপন
স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস : নিরসনের উপায়

সন্ত্রাস গ্রাস করছে সমাজকে। নীতি-মূল্যবোধে সুগঠিত সমাজ এখন সন্ত্রাসের মতো মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত। সন্ত্রাসের কালো থাবায় ভেঙ্গে পড়েছে নীতি-নৈতিকতা, অবক্ষয় ঘটেছে মূল্যবোধের। সর্বনাশা সন্ত্রাসের সর্বশেষ লক্ষ্যবস্তু শিক্ষাঙ্গন। শিক্ষাক্ষেত্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান, স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্র সন্ত্রাসের অবাধ রাজত্ব। শিক্ষাকে বলা হয় জাতির মেরুদণ্ড। জাতি গঠনের প্রাথমিক কাজটি করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। মেধা আর মননের সঠিক পরিচর্যা করে সুনাগরিক হিসেবে তৈরি করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিকল্প নেই। অথচ শিক্ষাঙ্গন এখন সন্ত্রাসের ভয়ে সন্ত্রস্ত । বর্তমানে প্রতিটি ছাত্র জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষালয়ে যায় । যে পরিবেশে মেধার বিকাশ ঘটে, যে পরিবেশে একটি ছাত্র নিজেকে তুলে ধরে নিজের সর্বোত্তম ক্ষমতায়, তা এখন অতীত। সন্ত্রাস কবলিত শিক্ষাঙ্গনের এহেন অবস্থায় জাতির ভবিষ্যৎ অন্ধকারচ্ছন্ন।

সন্ত্রাস দমন করে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি করতে না পারলে ছাত্রজীবন এবং জাতীয় জীবনের অনিশ্চিত পথে যাত্রা রোধ করা সম্ভব হবে না। শিক্ষাঙ্গনকে তাই সন্ত্রাসমুক্ত করতে হবে জাতীয় প্রয়োজনে এবং এ জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে সময়োপযোগী কার্যকরী পদক্ষেপ। শিক্ষাঙ্গনের সন্ত্রাস নিরসনে নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে:

প্রথমত: ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে ছাত্রদের গৌরবময় অংশগ্রহণ থাকলেও কালের প্রবাহে তার চরিত্র হারিয়েছে। নীতিচ্যুত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ছাত্রদের ব্যবহার করছে। ন্যায় এবং অন্যায়ের টানাপোড়নে বিভ্রান্ত ছাত্র সমাজকে রাজনীতি থেকে মুক্ত রাখতে পারলে সন্ত্রাস রোধ করা সম্ভব।

দ্বিতীয়ত: সাংস্কৃতিক কিংবা সামাজিক সংগঠনের নামে শিক্ষাঙ্গনে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। কেননা, বহিরাগতদের মাধ্যমেই ক্যাম্পাসে অনুপ্রবেশ করে সন্ত্রাসের কালো বীজ।

তৃতীয়ত: দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে। পুলিশ-সন্ত্রাসীর বর্তমান সহাবস্থান দৃশ্যের অবসান ঘটাতে হবে।

চতুর্থত: শিক্ষাঙ্গনে কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি করতে হবে, যাতে স্বেচ্ছাভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করবে ছাত্ররা।

[jnews_element_ads ads_type=”code” content=” “]

পঞ্চমত: সেশন জটের বর্তমান অবস্থার অবসান না হলে সন্ত্রাস নিরসনে সফলতা আশা করা অসম্ভব। কেননা, হতাশা আর নৈরাশ্যের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার নামই সন্ত্রাস। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে সন্ত্রাস নিরসন খুবই জরুরি এবং সবার সাথে এ প্রক্রিয়া শিক্ষাঙ্গন থেকেই শুরু করা অত্যাবশ্যক। তাই কর্তৃপক্ষের কার্যকরী পদক্ষেপ এক্ষেত্রে জাতীয় বিপর্যয় রোধ করতে সক্ষম হবে।

নিবেদক
রিপন
স্নাতকোত্তর শেষ বর্ষ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে আপনার পরামর্শ সংবাদপত্রে প্রকাশের জন্য সম্পাদকের নিকট পত্র।

০৮/০২/২০২২
বরাবর,
সম্পাদক,
প্রথম আলো
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,
কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত এবং প্রশংসিত দৈনিক ‘প্রথম আলো’র চিঠিপত্র কলামে নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় বিষয়টি প্রকাশ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে সহায়তা করলে জনসাধারণের কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন ৷

বিনীত
মৃদুল

সড়ক দুর্ঘটনা এবং আমাদের করণীয়

ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে যানবাহনের সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি তার সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে সড়ক দুর্ঘটনা। দেশের বিভিন্ন এলাকায়, শহরে কি মফস্বলে প্রতিদিন ঘটছে এ দুর্ঘটনা। সংবাদপত্রে প্রতিদিন দুর্ঘটনাজনিত সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে এবং এর হার বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে যুব-বৃদ্ধ নির্বিশেষে সকল পেশার মানুষ। ভেঙে যাচ্ছে কোন পরিবারের স্বপ্ন-আশা।

পঙ্গুত্বের অসহায় করুণ জীবন বেছে নিতে হচ্ছে অনেককেই। আবার সপরিবারে নিহত হবার মারাত্মক সংবাদও পত্রিকার পাতায় দুর্লভ নয়। চাকরি- ব্যবসায় কিংবা জরুরি প্রয়োজনে আমাদের প্রতিদিন যাতায়াতের জন্য যানবাহনে চড়তে হয়। জীবন-যাপনের জন্য এর কোন বিকল্প নেই। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হয়ে অনেককেই ফিরতে হয় মারাত্মক কোন সংবাদ হয়ে। সড়ক দুর্ঘটনাজনিত অকালমৃত্যু কিংবা পঙ্গুত্ববরণ খুবই মর্মান্তিক এবং বেদনাদায়ক। এ অবস্থার দ্রুত অবসান হওয়া দরকার।

🔆🔆 আরও দেখুন: চাকরি থেকে অব্যাহতির জন্য আবেদন (নমুনা উদাহরণ সহ)
🔆🔆 আরও দেখুন: চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম – নমুনা ও পিডিএফ সহ
🔆🔆 আরও দেখুন: চিঠি লেখার নিয়ম। পত্র লেখার সঠিক নিয়ম জানুন

প্রায় প্রতিটি দুর্ঘটনার পরেই সংবাদপত্র কিংবা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এর প্রতিকার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছে। মিছিল-মিটিং, কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি পেশ ইত্যাদি নানা কর্মসূচি পালন করা হলেও বাস্তবে তা কোন প্রভাব ফেলছে বলে মনে হয় না। অথচ সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে তা অদূর ভবিষ্যতে আরো মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনবে। নিম্নে দুর্ঘটনা রোধে কয়েকটি সুপারিশ পেশ করছি-

১. ত্রুটিমুক্ত যানবাহন নিশ্চিত করতে হবে। কেননা দুর্ঘটনার জন্য ত্রুটিযুক্ত যানবাহনগুলোই বেশি দায়ী।
২. গাড়ি চালককে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অদক্ষ চালক যে কোন সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
৩. অতিরিক্ত যাত্রী বহন রোধ করতে হবে।
৪. ট্রাফিকের অসাধুতা রোধ এবং ট্রাফিক নিয়ম-কানুন আরো কড়াকড়ি করতে হবে।
৫. রাস্তাঘাট নির্মাণে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৬. অপ্রয়োজনে রাস্তার গতি পরিবর্তন দুর্ঘটনা ডেকে আনে। জনসাধারণকে আরো সচেতন এবং সতর্কভাবে চলাফেরা করতে হবে।

উপরিউক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে সড়ক দুর্ঘটনা বন্ধ হবে, একথা জোর দিয়ে বলা যায়। তাই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি; সুপারিশগুলো বিবেচনা করে বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।

বিনীত
মৃদুল

[jnews_element_ads ads_type=”code” content=” ” ads_bottom_text=”true”]

মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টির উদ্দেশ্যে সংবাদপত্রের চিঠিপত্র কলামে প্রকাশের জন্য পত্র।

২০ মার্চ, ২০২২ ইং
বরাবর,
সম্পাদক,
দৈনিক ইত্তেফাক,
১, আর কে মিশন রোড, ঢাকা।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত দৈনিক ‘ইত্তেফাক’ এর চিঠিপত্র কলামে নিম্নলিখিত পত্রখানা প্রকাশ করলে কৃতজ্ঞ হব।

নিবেদক
সাইফুল ইসলাম ঢাকা।

মাদকমুক্ত সমাজ চাই

সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনের প্রতি হুমকি হয়ে আবির্ভূত হয়েছে মাদকাসক্তি। মাদকদ্রব্যের ভয়ানক উপস্থিতি সমাজব্যবস্থার ভিত্তিতে আঘাত করছে। এর প্রভাবে জাতির প্রাণশক্তি তরুণ সম্প্রদায় ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। দেশ এবং জাতির প্রতি মারাত্মক ক্ষতির নিয়ামক এ মাদকাসক্তি সম্বন্ধে তাই প্রয়োজন সচেতনতা এবং এর থেকে মুক্তির উপায় বের করে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ ।

বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি উন্নয়নশীল দেশ। দরিদ্রতা, অশিক্ষা কিংবা জনসংখ্যা সমস্যার মতো বহু সমস্যায় বিপর্যস্ত দেশে মাদকাসক্তি মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনছে। নানাভাবে বিষিয়ে তুলছে তরুণ সমাজ জীবনকে। এটি কেবল একটি সামাজিক সমস্যাই নয়, অনেকগুলো সমস্যার অন্যতম কারণও। মাদকাসক্ত যুবক সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তার পরিবারের জন্য। ব্যয়বহুল এ নেশার খরচ জোগাতে না পেরে মেধাবী তরুণ বেছে নেয় মারাত্মক কোন পথ যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর; আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম কারণ। ফলশ্রুতিতে অকালে ঝরে যায় অনেক সম্ভাবনা। কেননা, মদের বোতল, হেরোইন, প্যাথেড্রিন ইনজেকশন কেবল মারাত্মক পরিণতিই ডেকে আনে না অনেক সময়; শেষ করে দেয় প্রাণশক্তিও।

মাদকাসক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। আর এ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে পরিবার থেকে। সন্তানদের মধ্যে মাদকের কুফল সম্বন্ধে জ্ঞান দিতে হবে। এটি যে সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবনের প্রতিবন্ধক এ ধারণা তাদের মধ্যে তৈরি করতে হবে। সরকারি কার্যকরী উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে জনসাধারণের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে আরো সজাগ এবং সতর্ক ভূমিকার মাধ্যমে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং ব্যবসা বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে জনসাধারণের সক্রিয় সহযোগিতা না থাকলে পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করা অর্থহীন হয়ে দাঁড়াবে। মাদকদ্রব্য প্রতিরোধ করা আমাদের জাতীয় ও নৈতিক দায়িত্ব। একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য বর্তমানের জটিল সমস্যার মূল- উৎপাটন অত্যাবশ্যক। সর্বস্তরের জনগণের সচেতনতা এবং অংশগ্রহণেই মাদকাসক্তির মতো একটি মারাত্মক ব্যাধির নির্মূল সম্ভব।

নিবেদক
সাইফুল ইসলাম
ঢাকা।

বন্যার্তদের সাহায্যের আবেদন জানিয়ে কোন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশের জন্য সম্পাদকের নিকট পত্র।

২৬/০১/২০২২
বরাবর,
সম্পাদক,
প্রথম আলো
সিএ ভবন, ১০০ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,
কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫।

জনাব,
আপনার বহুল প্রচারিত এবং প্রশংসিত, সংবাদপত্র শিল্পে ভিন্নমাত্রা সংযোজনকারী দৈনিক ‘প্রথম আলো’ পত্রিকায় নিম্নলিখিত প্রয়োজনীয় বিষয়টি প্রকাশ করে বন্যার্ত মানুষের কৃতজ্ঞতাভাজন হবেন।

বিনীত
মিজানুর রহমান
বি. বাড়িয়া এলাকাবাসীর পক্ষে

বন্যার্তদের সাহায্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত আখাউড়া থানার গোবিন্দপুর, দেবপুর, আলাবক্সপুরসহ কয়েকটি গ্রামের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। প্রবল বৃষ্টিপাত এবং সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে গত দশদিন ধরে এলাকাটি মারাত্মকভাবে বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে। এলাকার কাঁচা ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে এবং অধিকাংশ ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বানে ভেসে গেছে অনেকের ঘর, নিত্য ব্যবহার্য জিনিসপত্র এমনকি গৃহপালিত পশুও ভেসে গেছে বন্যায়। বন্যার ভয়াবহতায় দিশেহারা মানুষ এর থেকে। পরিত্রাণের উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। অনেকে উঁচু মাচান বেঁধে বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু মাচানের ওপর দীর্ঘদিন অবস্থান অসম্ভব। দারিদ্র্যকবলিত মানুষের জন্য এ বন্যা অভিশাপরূপে আবির্ভূত হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার ফসল সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়েছে।

সারা বছরের সংরক্ষিত খাদ্যশস্যও বানের পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এলাকার জনগণ এখন তীব্র খাদ্য সংকটে নিপতিত। রান্না করে খাওয়ার উপায় নেই বলে বেশ কিছুদিন ধরে শুকনো খাবার, মুড়ি, চিড়া ইত্যাদি খেয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে এবং খাবার পানির তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে ডায়রিয়ার মতো মারাত্মক রোগ দেখা দিয়েছে, দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে যা মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

শিশুখাদ্যের অভাবে শত শত শিশুর জীবন এখন বিপন্ন। বন্যার ভয়াবহতার মধ্যেও যে গবাদিপশুগুলো এখনো বেঁচে আছে, খাদ্য সমস্যার কারণে সেগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এ পরিস্থিতি দিন দিন মারাত্মক পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এ অবস্থায়, অবিলম্বে বন্যার্ত মানুষের জীবন রক্ষার্থে খাদ্য, বস্ত্র এবং ওষুধ-পথ্যের আশু প্রয়োজন। আমরা সরকারের ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, যেন বন্যার্ত মানুষকে এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উদ্ধারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

নিবেদক
মিজানুর রহামন
বি. বাড়িয়া এলাকাবাসীর পক্ষে।


আশা করছি আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের ভালো লেগেছে। এর পরও কোথাও বুঝতে সমস্যা হলে আমাদের কমেন্টে বলতে পারেন। আমরা দ্রুততার সহিত আপনার মূল্যবান কমেন্ট এর রিপলে করার চেষ্টা করবো। ভালো থাকবেন সবাই, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

আমি মেরাজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পাশাপাশি একজন ব্লগার। এডুকেশন এর প্রতি ভালোবাসাও অনলাইল শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর জন্য এডুকেশন ব্লগের পথচলা। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড সকল কাজ করি।

Check Also

নেকলেস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর

আপনি কি নেকলেস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর খুজতেছেন? আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের জন্য। আজকের আর্টিকেলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *