রক্তে আমার অনাদি অস্থি কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর

আপনি কি রক্তে আমার অনাদি অস্থি কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর খুজতেছেন? আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের জন্য। আজকের আর্টিকেলে রক্তে আমার অনাদি অস্থি কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।

রক্তে আমার অনাদি অস্থি কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

প্রশ্ন-১. কবি দিলওয়ারের পুরো নাম কী?
উত্তর: কবি দিলওয়ারের পুরো নাম- দিলওয়ার খান।

প্রশ্ন-২. কবি দিলওয়ারের পারিবারিক পদবি কী?
উত্তর: কবি দিলওয়ারের পারিবারিক পদবি ‘খান’।

প্রশ্ন-৩. দিলওয়ারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ কোনটি?
উত্তর: দিলওয়ারের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘জিজ্ঞাসা’।

প্রশ্ন-৪. কবি দিলওয়ার কোন পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন?
উত্তর: কবি দিলওয়ার ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ পত্রিকার সহকারী সম্পাদক ছিলেন।

প্রশ্ন-৫. ‘ঐকতান’ কবি দিলওয়ারের কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: ‘ঐকতান’ কবি দিলওয়ারের রচিত কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন-৬. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কাকে বন্দনা করা হয়েছে?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় নদীমাতৃক বাংলাদেশকে বন্দনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন-৭. কবি দিলওয়ার কী হিসেবে নিজের পরিচয় ব্যক্ত করেছেন?
উত্তর: কবি দিলওয়ার গণমানবের শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয় ব্যক্ত করেছেন।

প্রশ্ন-৮. কবি দিলওয়ার নিজের অস্তিত্বে কী ধারণ করে আছেন?
উত্তর: কবি দিলওয়ার নিজের অস্তিত্বে জাতিসত্তার শোণিত ও অস্থি ধারণ করে আছেন।

প্রশ্ন-৯. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় বর্ণিত বহমান জীবন কী নয়?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় বর্ণিত বহমান জীবন বাধাহীন নয়।

প্রশ্ন-১০. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কয়টি নদীর উল্লেখ রয়েছে?
উত্তর:, ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় ছয়টি নদীর উল্লেখ রয়েছে।

প্রশ্ন-১১. প্রবহমান নদীর বাঁকে বাঁকে কী পাতা রয়েছে?
উত্তর: প্রবহমান নদীর বাঁকে বাঁকে মৃত্যুর ফাঁদ পাতা রয়েছে।

প্রশ্ন-১২. কবি কার কাছে প্রেম প্রত্যাশা করেন?
উত্তর: কবি যমুনার কাছে প্রেম প্রত্যাশা করেন।

প্রশ্ন-১৩. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কার কাজল বুকের পলিতে গলিত হেম?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় সুরমার কাজল বুকের পলিতে গলিত হেম।

প্রশ্ন-১৪. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কাদের ‘নরদানব’ বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় বিদেশি নরপিশাচদের ‘নরদানব’ বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-১৫. বিদেশি নরদানবের আগ্রাসন কাদের দমাতে পারেনি?
উত্তর: বিদেশি নরদানবের আগ্রাসন ক্রোধমত্ত জনগোষ্ঠীকে দমাতে পারেনি ।

প্রশ্ন-১৬. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় বর্ণিত ‘প্রাণের জাহাজ’ বোঝাই আছে কোথায়?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় বর্ণিত ‘প্রাণের জাহাজ’ বোঝাই আছে নরদানবের মুখে।

প্রশ্ন-১৭. কবির রক্তে যে অনাদি অস্থি, তা কারা জানে না?
উত্তর: কবির রক্তে যে অনাদি অস্থি, তা বিদেশের কেউ জানে না ।

প্রশ্ন-১৮. ‘মারণ বেলা’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘মারণ বেলা’ শব্দের অর্থ— বিনাশ কাল।

প্রশ্ন-১৯. ‘অনাদি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘অনাদি’ শব্দের অর্থ— আদিহীন।

প্রশ্ন-২০. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি কাকে উৎসর্গ করা হয়?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি কবীর চৌধুরীকে উৎসর্গ করা হয়।

প্রশ্ন-২১. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কাব্যগ্রন্থটি প্রথম সিলেট থেকে প্রকাশিত হয় ।

প্রশ্ন-২২. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি কয় মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি ছয় মাত্রার মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

প্রশ্ন-২৩. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটির অপূর্ণ পর্ব কত মাত্রার?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটির অপূর্ণ পর্ব ২ মাত্রার।

প্রশ্ন-২৪. কবি দিলওয়ার কোন গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কবি দিলওয়ার ভার্থখলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-২৫. কবি দিলওয়ারের কবিতার মূলসুর কী?
উত্তর: কবি দিলওয়ারের কবিতার মূলসুর দেশ, মাটি ও মানুষের প্রতি আস্থা ও দায়বদ্ধতা।

প্রশ্ন-২৬. কবি দিলওয়ারের ক্রোধ কোন সম্পদে পরিণত হয়েছে?
উত্তর: কবি দিলওয়ারের ক্রোধ সমগ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদে পরিণত হয়েছে।

প্রশ্ন-২৭. কবি দিলওয়ার নিজের অস্তিত্বে কী ধারণ করে আছেন?
উত্তর: কবি দিলওয়ার নিজের অস্তিত্বে জাতিসত্তার শোণিত ও অস্থি ধারণ করে আছেন।

প্রশ্ন-২৮. ‘প্রাণের জাহাজ’ কথাটি ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
উত্তর: ‘প্রাণের জাহাজ’ কথাটি ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় জনতা ও জনসম্পদ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

প্রশ্ন-২৯. কবি দিলওয়ার যমুনার কাছে কী চেয়েছেন?
উত্তর: কবি দিলওয়ার যমুনার কাছে প্রেম চেয়েছেন।

প্রশ্ন-৩০. ‘অনতীত পক্তিমালা’ কোন কবির কাব্যগ্রন্থ?
উত্তর: ‘অনতীত পঙ্ক্তিমালা’ দিলওয়ারের কাব্যগ্রন্থ।

প্রশ্ন-৩১. “রক্তে আমার অনাদি অস্থি” কবিতায় কবির ক্রোধকে কীসের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবির ক্রোধকে ভয়াল ঘূর্ণির সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

প্রশ্ন-৩২. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবি তাঁর প্রাণস্বপ্নকে কোথায় আমানত রেখেছেন?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবি তাঁর প্রাণস্বপ্নকে বঙ্গোপসাগরে আমানত রেখেছেন।

প্রশ্ন-৩৩. ‘স্বনিষ্ঠ সনেট’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘স্বনিষ্ঠ সনেট’ কব্যিগ্রন্থটির রচয়িতা কবি দিলওয়ার ।

প্রশ্ন-৩৪. ‘গণমানব’ শব্দটির অর্থ কী?
উত্তর: ‘গণমানব’ শব্দটির অর্থ প্রান্তিক জনগণ।

প্রশ্ন-৩৫. ‘হেম’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘হেম’ শব্দের অর্থ সোনা।

প্রশ্ন-৩৬. ‘নিরবধি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘নিরবধি’ শব্দের অর্থ— বিরামহীন।

🔆🔆 আরও দেখুন: চিঠি লেখার নিয়ম। পত্র লেখার সঠিক নিয়ম জানুন
🔆🔆 আরও দেখুন: Bengali to English translation book pdf 

প্রশ্ন-৩৭. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি কত সালে প্রকাশিত হয়?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি ১৯৮১ সালে প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন-৩৮. সিলেট শহর সংলগ্ন কোন নদী রয়েছে?
উত্তর: সিলেট শহর সংলগ্ন সুরমা নদী রয়েছে।

প্রশ্ন-৩৯. কবি কোন নদীর প্রেম চান?
উত্তর: কবি যমুনা নদীর প্রেম চান।

প্রশ্ন-৪০. কবির ক্রোধ কোথায় জ্বলে?
উত্তর: গণমানবের বুকে কবির ক্রোধ জ্বলে।

প্রশ্ন-৪১. কবি বঙ্গোপসাগরের কাছে কী আমানত রেখেছেন?
উত্তর: কবি বঙ্গোপসাগরের কাছে তাঁর প্রাণ স্বপ্নকে আমানত রেখেছেন।

প্রশ্ন-৪২. ‘ঘূর্ণি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘ঘূর্ণি’ শব্দের অর্থ— ঘূর্ণমান জলরাশি।

প্রশ্ন-৪৩. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি কোন ছন্দে রচিত?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে রচিত।

প্রশ্ন-৪৪. কবি দিলওয়ার কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: কবি দিলওয়ার ১৯৩৭ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৪৫. কবি পদ্মার কাছে কী চেয়েছেন?
উত্তর: কবি পদ্মার কাছে যৌবন চেয়েছেন প্রশ্ন-৪৬. কবির রক্তে কী রয়েছে? উত্তর: কবির রক্তে অনাদি অস্থি রয়েছে।

প্রশ্ন-৪৭. কবি দিলওয়ার মৃত্যুবরণ করেন কবে?
উত্তর: কবি দিলওয়ার মৃত্যুবরণ করেন ২০১৩ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই অক্টোবর।

প্রশ্ন-৪৮. ‘অস্থি’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘অস্থি’ শব্দের অর্থ ‘হাড়’।

প্রশ্ন-৪৯. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’— কবিতার রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতার রচয়িতা দিলওয়ার।

প্রশ্ন-৫০. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতাটি ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

রক্তে আমার অনাদি অস্থি কবিতার অনুধাবন প্রশ্ন

প্রশ্ন-১. ‘গণমানবের তুলি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘গণমানবের তুলি’ বলতে শিল্পী জনতার তুলিকে বুঝিয়েছেন। ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবি গণমানবের শিল্পী হিসেবে নিজের পরিচয় জ্ঞাপন করেছেন। কারণ কবি বাংলাদেশের প্রবহমান নদীগুলোর রূপবৈচিত্র্য অবলোকন করেছেন। নদীর যে বিচিত্র খেলা, নদীপাড়ের মানুষের জীবনের রঙের ছবি তিনি তাঁর কল্পনার রঙে আঁকেন। সাধারণ মানুষের বিচিত্র জীবনের ছবি আঁকেন বলে কবি নিজেকে গণমানবের শিল্পী মনে করেন।

প্রশ্ন-২. কবি বঙ্গোপসাগরের কাছে তাঁর প্রাণের স্বপ্নকে রেখেছেন কীভাবে?
উত্তর: বঙ্গোপসাগরের বিশালতার সঙ্গে ঐক্যসূত্র অনুভব করে কবি বঙ্গোপসাগরের কাছে তাঁর প্রাণের স্বপ্নকে রেখেছেন। সাগর যেমন বিশাল, কবির স্বপ্নও তেমন বিশাল। সে স্বপ্ন হলো নিজের অস্তিত্ব ও বাঙালি জাতিসত্তাকে বিদেশি আগ্রাসনের হাত থেকে রক্ষা করার স্বপ্ন। কবি চান দেশ তথা জাতি এ স্বপ্নকে ধারণ করুক। বিদেশিরা বুঝতে পারুক বঙ্গোপসাগর যেমন বিশাল, বাঙালি জাতির স্বপ্নও তেমন বিশাল।

প্রশ্ন-৩, ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় সুরমা নদীর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে কেন?
উত্তর: ভূমির উর্বরতায় সুরমা নদীর অসামান্য অবদানের কারণে ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় সুরমা নদীর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে। নদীর পানিতে যে পলি বাহিত হয় তা অত্যন্ত মূল্যবান। কেননা এই পলি ভূমির উর্বরতা বাড়ায়। এই উর্বর মাটিতে সোনার ফসল ফলে। তাই কবি সুরমা নদীতে মিশ্রিত পলিমাটিকে গলিত সোনার সঙ্গে তুলনা করেছেন। সুরমা নদীর এ অবদানের কারণেই কবিতায় সুরমা নদীর প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রশ্ন-৪. জীবনরূপ নদীর নিরন্তর বয়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: বিশাল শক্তির উৎস বঙ্গোপসাগরের সাথে মিশে নিজেকে আরও শক্তিশালী করতে জীবনরূপ নদী নিরন্তর বয়ে যাচ্ছে। নদীমাতৃক দেশ ও বাংলাদেশ অনাবিল আনন্দের সাথে বয়ে যাওয়াই নদীর ধর্ম। এভাবে নদী, বয়ে যেতে যেতে বঙ্গোপসাগরের সাথে মিশে এক ব্যাপক শক্তিতে পরিণত হয়। এখানে মূলত নদীর নিরন্তর পথচলা দ্বারা বাঙালি জাতির স্বাধীনচেতা সংগ্রামী মনোভাবকেই বোঝানো হয়েছে। সমস্ত নদী যেমন বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়ে অসম শক্তিরূপে প্রকাশিত হয় অনুরূপভাবে বাঙালির সংগ্রামী চেতনায় সকল বিদেশি শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাবে।

প্রশ্ন-৫. ‘পদ্মা তোমার যৌবন চাই’— পক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘পদ্মা তোমার যৌবন চাই’— পক্তিটি দ্বারা কবি পদ্মার চির প্রবহমানতা কামনা করেছেন। কবি দিলওয়ার তাঁর কবিতায় সাগরদুহিতা ও নদীমাতৃক বাংলাদেশের বন্দনা করেছেন । পদ্মা অনন্ত যৌবনা। এই নদীর প্রবহমানতা কবির আরাধ্য। পদ্মা তার চলার পথে সকল বাধা অনায়াসে অতিক্রম করে। এ কারণেই কবি পদ্মার যৌবন প্রার্থনা করেছেন।

প্রশ্ন-৬. ‘ভয়াল ঘূর্ণি’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘ভয়াল ঘূর্ণি’ বলতে কবি প্রতীকী অর্থে বাঙালি জাতির সংগ্রামী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার শক্তিকে বুঝিয়েছেন। বাঙালি চিরকালই সংগ্রামী জাতি হিসেবে পরিচিত। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম, ছয় দফা ইত্যাদি বিভিন্ন আন্দোলনে বাঙালিরা দেখিয়েছে তাদের জাতীয় চেতনা, সংগ্রামী মনোভাব, জয়ের মূলমন্ত্র। নদীর পানি যেমন একীভূত হয়ে ভয়াল ধ্বংসাত্মক রূপ তৈরি করে থাকে তেমনি বাঙালির সংগ্রামী মনোভাব সমস্ত অপশক্তিকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। ভয়াল ঘূর্ণি বলতে কবি প্রতীকী অর্থে বাঙালির চিরন্তন সংগ্রামের দিকটিকেই বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন-৭. কীভাবে কবি তাঁর ক্রোধকে শক্তিমান করেছেন? বুঝিয়ে লেখো।
উত্তর: সমুদ্রের বিশাল ঘূর্ণমান জলরাশি দেখে কবি তাঁর ক্রোধকে শক্তিমান করেছেন। করে কবি বিদেশি নরদানবের আগ্রাসন দেখে ক্ষুব্ধ। তিনি চান বাঙালি জাতি যেন তাদের নিজস্ব অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখে। কিন্তু মানুষরূপী নরপশুরা অত্যাচার, নির্যাতন-নিপীড়ন বাঙালিদের অধিকারবঞ্চিত করতে চায়। তা দেখে কবি ক্ষুব্ধ। সমুদ্রের বিশাল জলরাশি যেমন সবকিছু ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়, কবিও চান বিপক্ষ লি শক্তিকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিতে। তাই কবি সমুদ্রের ঘূর্ণমান ভয়াল জলরাশির মতো তাঁর ক্রোধকে শক্তিমান করেছেন।

প্রশ্ন-৮. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় দেশের প্রতি কবির যে মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে, তা ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতার মূলভাবে দেশের প্রতি কবির মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে। কবি বাংলার মাটি, নদী প্রকৃতিকে দেখে গভীরভাবে এর সৌন্দর্য .অনুভব করেছেন। তিনি বিভেদমুক্ত কল্যাণী পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন। বাঙালিকে যারা পরাধীন করে রাখতে চায়, কবি তাদের প্রতি প্রচণ্ড কুদ্ধ। তিনি চান বাঙালিরা যেন তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখে। কবি দেশের মাটি ও মানুষকে ভালোবাসেন। তাঁদের প্রতি কবি আস্থাবান ।

প্রশ্ন-৯. ‘বহমান জীবন এখানে বাধাহীন নয়’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বহমান জীবনে যে নানা বাধা-বিঘ্ন থাকে, আলোচ্য কথাটি দ্বারা সে বিষয়টি বোঝানো হয়েছে। নদী তার চলার পথে নানা জায়গায় বাধা পায়, আবার এগিয়ে চলে। অনুরূপভাবে বাঙালি জাতির জীবনও তেমনি বহমান। শত বাধা পেলেও বাঙালির চেতনা এক বিন্দু পরিমাণও ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় না। আলোচ্য কথাটি দ্বারা বাঙালির এমন সংগ্রামমুখর বহমান জীবনকেই বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন-১০. রক্তে আমার অনাদি অস্থি বিদেশে জানে না কেউ! উদ্ধৃত চরণগুলো দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: কবি তাঁর স্বদেশের নদীগুলো দ্বারা নিজের জাতির অস্তিত্বের যে সত্তা প্রকাশ করেছেন, তা আলোচ্য চরণগুলো দ্বারা রূপায়িত করেছেন। – কবি পরদেশী শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্যে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে একত্র করতে চেয়েছেন যেন তাদের মিলিত শক্তিতে শত্রুকে ঘায়েল করা যায়। এ কারণে বিদেশি নরদানবের আগ্রাসন এ জনগোষ্ঠীকে দমাতে পারে না। বিদেশিরা হয়তো জানে না যে, আবহমান ছুটে চলা নদীর মতোই কবি নিজের অস্তিত্বকে ধারণ করে আছেন, যা ওই জাতিসত্তার শোণিত ও অস্থি।

প্রশ্ন-১১. কবি নিজেকে গণমানবের শিল্পী হিসেবে কীভাবে উপস্থাপন করেছেন?
উত্তর: কবি তাঁর চেতনা ও সৃষ্টিতে নিজেকে গণমানবের শিল্পী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবি গণমানবের শিল্পী হিসেবে নিজের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কারণ তিনি তাঁর দেশ ও দেশের মানুষকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসেন। এই বাংলার সাধারণ মানুষের যে নিরন্তর জীবনপ্রবাহ, তাকেই কবি তাঁর চেতনা ও সাহিত্যকর্মের মূল উপজীব্য করেছেন। এভাবেই সহৃদয় আন্তরিকতায় কবি নিজেকে গণমানবের শিল্পী হিসেবে উপস্থাপন করেছেন।

প্রশ্ন-১২. বাংলার মাটিতে কীভাবে গলিত সোনা মিশে আছে?
উত্তর: বাংলার মাটিতে পলিরূপে গলিত সোনা মিশে আছে। বাংলাদেশ নদীমাতৃক কৃষিপ্রধান দেশ। বর্ষাকালে কিংবা বন্যার সময় এদেশের ফসলি জমিতে যোগ হয় সোনারঙা পলিমাটি। কবি সে পলিমাটিকেই সোনা মেশানো বলেছেন, কারণ এ মাটিতেই ফলে সোনার ফসল। যে মাটি খাঁটি সোনার মতোই মূল্যবান। তাই বলা যায় পলিরূপে বাংলার মাটিতে গলিত সোনা মিশে আছে।

প্রশ্ন-১৩. দিলওয়ারকে গণমানুষের কবি বলা হয়েছে কেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : দিলওয়ারের কবিতায় গণমানুষের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা চিত্তাকর্ষকভাবে প্রকাশিত হয়েছে বলেই তাঁকে গণমানুষের কবি বলা হয়েছে। দিলওয়ারের কবিতার মূলসুর দেশ, মাটি ও মানুষ; তিনি বিভেদমুক্ত এক পৃথিবীর স্বপ্ন দেখেন। তাঁর কবিতায় তিনি পৃথিবীকে স্বাপ্নিক করেছেন গণমানুষের মুক্তিকে লক্ষ্য করে। এ কারণে তাঁকে গণমানুষের কবি বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-১৪. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবি কীভাবে মানুষের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবি মানুষের সম্ভাবনা ও ভালোবাসাকে প্রত্যক্ষ করেই তার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন। কবি. এদেশে বিচিত্র মানুষের সমাগমকে লক্ষ করেছেন এবং দেখেছেন তাদের নানামুখী কর্মতৎপরতা। মানুষের বিচিত্র জীবনের মধ্যে তিনি অমিত সম্ভাবনাকে প্রত্যক্ষ করেছেন এবং মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে প্রত্যক্ষ করেছেন। এ কারণেই কবি মানুষের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছেন।

প্রশ্ন-১৫. কবি তাঁর প্রাণ-স্বপ্নকে কীভাবে কবিতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন? ব্যাখ্যা করো।
উত্তর : কবি নিজের অস্তিত্বকে জাতিসত্তার অস্থির মধ্যে ধারণ করেই তাঁর প্রাণ-স্বপ্নকে কবিতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কবি এ কবিতায় প্রকৃতির অনন্য রূপকতায় মানুষের যশস্বীতাকে লক্ষ করেছেন। এদেশের প্রকৃতির অস্তিত্বেই মানুষের অস্তিত্ব জড়িত। আর এই পরম্পরা আবহমানকাল ধরেই চলে আসছে। তাই কবিও নিজের ব অস্তিত্বকে জাতিসত্তার অস্থির মধ্যে ধারণ করেছেন এবং তাঁর প্রাণ- স্বপ্নকে কবিতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

প্রশ্ন-১৬. ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর : জাতিসত্তার শোণিত এবং অস্থি কবি নিজের অস্তিত্বে ধারণ করে আছেন, এখানে সেকথাই আলংকারিক ভাষায় ব্যক্ত হয়েছে। ‘রক্তে আমার অনাদি অস্থি’ কবিতায় কবিকে দেখা যায় দেশ ও ব্রণ মাটির কবি হিসেবে। কিন্তু তিনি মনে করেন, শুধু দেশপ্রেম নয়, তাঁর রক্তে প্রবহমান রয়েছে জাতিসত্তার শোণিত অস্থি, যাকে’ রুখতে পারবে না কোনো বিদেশি আগ্রাসন আলোচ্য পঙ্ক্তিতে এ বিষয়টিই উঠে এসেছে।

আশাকরি আজকের আর্টিকেল টি ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

আমি মেরাজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পাশাপাশি একজন ব্লগার। এডুকেশন এর প্রতি ভালোবাসাও অনলাইল শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর জন্য এডুকেশন ব্লগের পথচলা। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড সকল কাজ করি।

Check Also

নেকলেস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর

আপনি কি নেকলেস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর খুজতেছেন? আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের জন্য। আজকের আর্টিকেলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *