এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর

আপনি কি এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর খুজতেছেন? আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের জন্য। আজকের আর্টিকেলে এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর শেয়ার করা হবে। কথা না বাড়িয়ে তাহলে চলুন শুরু করি।


এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে কবিতার প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. কবি জীবনানন্দ দাশ মূলত কী হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেন?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ মূলত ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হিসেবে জীবন অতিবাহিত করেন।

প্রশ্ন-২. কে জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন?
উত্তর: বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রশ্ন-৩. কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় কীসের এক জগৎ তৈরি করেন?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশ কবিতায় সূক্ষ্ম ও গভীর অনুভবের এক জগৎ তৈরি করেন।

প্রশ্ন-৪. জীবনানন্দ দাশ কার কাছ থেকে কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন?
উত্তর: মা কুসুমকুমারী দাশের কাছ থেকে জীবনানন্দ দাশ কবিতা লেখার অনুপ্রেরণা লাভ করেছিলেন।

প্রশ্ন-৫. কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নিসর্গের সঙ্গে কী যুক্ত হয়েছে?
উত্তর: কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নিসর্গের সঙ্গে অনুভব ও বোধের বহুতর মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

প্রশ্ন-৬. জীবনানন্দ দাশের ‘কবিতার কথা’ কোন ধরনের রচনা?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের ‘কবিতার কথা’ প্রবন্ধ জাতীয় রচনা।

প্রশ্ন-৭. জীবনানন্দ দাশের পিতার নাম কী?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের পিতার নাম সত্যানন্দ দাশ।

প্রশ্ন-৮. জীবনানন্দ দাশ কোথায় মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন-৯. ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘বনলতা সেন’ কাব্যগ্রন্থটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।

প্রশ্ন-১০. ‘সতীৰ্থ’ উপন্যাসটি কার লেখা?
উত্তর: ‘সতীর্থ’ উপন্যাসটি জীবনানন্দ দাশের লেখা।

প্রশ্ন-১১. এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর করুণ স্থান বলা হয়েছে কোনটিকে?
উত্তর: এই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর করুণ স্থান বলা হয়েছে বাংলাদেশকে।

প্রশ্ন-১২. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে কী উড়ে যায়?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় অন্ধকার সন্ধ্যার বাতাসে সুদর্শন উড়ে যায়।

প্রশ্ন-১৩. কবির কাছে সবচেয়ে সুন্দর করুণ কী?
উত্তর: কবির কাছে সবচেয়ে সুন্দর করুণ তাঁর জন্মভূমি।

প্রশ্ন-১৪. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় বর্ণিত গঙ্গাসাগরের বুকে কী থাকে?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় বর্ণিত গঙ্গাসাগরের বুকে বারুণী থাকে।

প্রশ্ন-১৫, লক্ষ্মীপেঁচা কীসের মতো অস্ফুট?
উত্তর: লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট।

প্রশ্ন-১৬. ভোরের মেঘে জেগে ওঠা অরুণ কোন রং ধারণ করেছে?
উত্তর: ভোরের ‘মেঘে জেগে ওঠা অরুণ নাটা বা করমচা ফুলের রং ধারণ করেছে।

প্রশ্ন-১৭. বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে কাকে খুঁজে পাওয়া যায় না?
উত্তর: বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে শঙ্খমালাকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন-১৮. কার বরে শঙ্খমালা বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর জন্মেছে?
উত্তর: বিশালাক্ষীর বরে শঙ্খমালা বাংলার ঘাস আর ধানের ভিতর জন্মেছে।

প্রশ্ন-১৯. পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল বলা হয়েছে কাকে?
উত্তর: পানের বনের মতো হাওয়ায় চঞ্চল বলা হয়েছে শঙ্খচিলকে।

প্রশ্ন-২০, ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় অন্ধকার ঘাসের ওপর কী নুয়ে থাকে?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় অন্ধকার ঘাসের ওপর লেবুর শাখা নুয়ে থাকে।

প্রশ্ন-২১. কবির চোখে সমগ্র পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ কোনটি?
উত্তর: কবির চোখে সমগ্র পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর দেশ বাংলাদেশ ।

প্রশ্ন-২২. কে বর দিয়েছিল বলে বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: বিশালাক্ষী বর দিয়েছিল বলে বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন-২৩ বরুণ কে?
উত্তর: বরুণ হলেন জলের দেবতা।

প্রশ্ন-২৪. ‘বিশালাক্ষী’ শব্দটি দ্বারা কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘বিশালাক্ষী’ শব্দটি দ্বারা আয়তলোচনা দেবী দুর্গাকে বোঝানো হয়েছে।

প্রশ্ন-২৫. ‘নাটা’ কী?
উত্তর: নাটা হচ্ছে গোলাকার ক্ষুদ্র ফল বা তার বীজ।

প্রশ্ন-২৬. ‘সুদৰ্শন’ কী?
উত্তর: ‘সুদর্শন’ একধরনের পোকা।

প্রশ্ন-২৭. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটির রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতাটির রচয়িতা জীবনানন্দ দাশ।

প্রশ্ন-২৮. জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন কে?
উত্তর: বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম কবি’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রশ্ন-২৯. জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নিসর্গের সঙ্গে কী যুক্ত হয়েছে?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের কবিতায় নিসর্গের সঙ্গে অনুভব ও বোধের বহুতর মাত্রা যুক্ত হয়েছে।

প্রশ্ন-৩০, ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান’ আছে’ কবিতায় ভোরের মেঘে.. কীসের জেগে ওঠার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় ভোরের মেঘে অরুণের জেগে ওঠার কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-৩১. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় হলুদ শাড়ি পরিহিতা রূপসীর নাম কী?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় হলুদ শাড়ি পরিহিতা রূপসীর নাম ‘শঙ্খমালা’।

প্রশ্ন-৩২. কবির মতে শঙ্খমালাদের পাওয়া যাবে কোথায়?
উত্তর: কবির মতে শঙ্খমালাদের শুধু তাঁর দেশ অর্থাৎ বাংলাদেশেই পাওয়া যাবে।

প্রশ্ন-৩৩, কার বরে বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে?
উত্তর: বিশালাক্ষীর বরে বাংলার ভূ-প্রকৃতির মধ্যে অনুপম সৌন্দর্য সৃষ্টি হয়েছে।

প্রশ্ন-৩৪, কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী, পদ্মার অবিরল জল দান করে কে?
উত্তর: কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী, পদ্মাকে অবিরল জল দান করে জলের দেবতা বরুণ ৷

প্রশ্ন-৩৫. কী দিয়ে জলের দেবতা এদেশের নদ-নদীকে স্রোতস্বিনী রাখে?
উত্তর: অনিঃশেষ জলধারা দিয়ে জলের দেবতা এদেশের নদ-নদীকে স্রোতস্বিনী রাখে।

প্রশ্ন-৩৬. ‘অবিরল’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘অবিরল’ শব্দের অর্থ অবিশ্রান্ত, নিরন্তর ।

প্রশ্ন-৩৭. জীবনানন্দ দাশের কাব্যবৈশিষ্ট্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কী বলে আখ্যায়িত করেছেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের কাব্যবৈশিষ্ট্যকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘চিত্ররূপময়’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

প্রশ্ন-৩৮. বরুণের স্ত্রীর নাম কী?
উত্তর: বরুণের স্ত্রীর নাম— বারুণী।

প্রশ্ন-৩৯, সবুজ ডাঙা কীসে ভরে আছে?
উত্তর: সবুজ ডাঙা মধুকূপী ঘাসে ভরে আছে।

প্রশ্ন-৪০. জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কী?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশের মায়ের নাম কুসুমকুমারী দাশ।

প্রশ্ন-৪১. বারুণী কে?
উত্তর: বারুণী হলেন জলের দেবতা ‘বরুণের স্ত্রী।

প্রশ্ন-৪২. মধুকূপী ঘাসে অবিরল কী ভরে আছে?
উত্তর: মধুকূপী ঘাসে অবিরল সবুজ ডাঙা ভরে আছে।

প্রশ্ন-৪৩. সুদর্শন কখন ঘরে উড়ে যায়?
উত্তর: সুদর্শন সন্ধ্যার অন্ধকারে ঘরে উড়ে যায়।

প্রশ্ন-৪৪, বারুণী কোথায় থাকে?
উত্তর: বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে।

প্রশ্ন-৪৫, কবি বাংলার ডাঙাকে কী রঙে প্রত্যক্ষ করেছেন?
উত্তর: কবি বাংলার ডাঙাকে সবুজ রঙে প্রত্যক্ষ করেছেন।

প্রশ্ন-৪৬. মধুকৃপী কী?
উত্তর: মধুকূপী এক ধরনের ঘাস।

প্রশ্ন-৪৭. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কে ঘরে উড়ে যায়?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় সুদর্শন তার ঘরে উড়ে যায়।

প্রশ্ন-৪৮. ‘জলাঙ্গী’ শব্দের অর্থ কী?
উত্তর: ‘জলাঙ্গী’ শব্দের অর্থ— জলাশয় বা জল ধারণকারী।

প্রশ্ন-৪৯. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার রচয়িতা কে?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতার রচয়িতা কবি জীবনানন্দ দাশ।

প্রশ্ন-৫০. ঘাস আর ধানের ভিতর কে জন্মেছে?
উত্তর: ঘাস আর ধানের ভিতরে শঙ্খমালা জন্মেছে।

প্রশ্ন-৫১. বিশালাক্ষী কাকে বর দিয়েছিল?
উত্তর: রিশালাক্ষী শঙ্খমালাকে বর দিয়েছিল।

প্রশ্ন-৫২. অন্ধকারে ঘাসের ওপর কী নুয়ে আছে?
উত্তর: অন্ধকারে ঘাসের উপর লেবুর শাখা নুয়ে আছে।

প্রশ্ন-৫৩. ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট কে?
উত্তর: লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট।

প্রশ্ন-৫৪. ‘চিত্ররূপময়’– জীবনানন্দের কবিতা সম্পর্কে মন্তব্যটি কার?
উত্তর: ‘চিত্ররূপময়’— জীবনানন্দ দাশের কবিতা সম্পর্কে মন্তব্যটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।

প্রশ্ন-৫৫. জীবনানন্দ দাশ কত খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৫৬. জীবনানন্দ দাশ কোন জেলায় জন্মগ্রহণ করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-৫৭. রূপসীর শরীরের পর কী লেগে থাকে?
উত্তর: রূপসীর শরীরের পর হলুদ শাড়ি লেগে থাকে।

প্রশ্ন-৫৮. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় উল্লেখিত চত রূপসীর নাম কী?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় উল্লেখিত রূপসীর নাম শঙ্খমালা।

প্রশ্ন-৫৯. পৃথিবীর কোথায় শঙ্খমালাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না?
উত্তর: বাংলা ছাড়া পৃথিবীর কোনো নদী ঘাসে শঙ্খমালাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না।

প্রশ্ন-৬০. কর্ণফুলী-ধলেশ্বরীকে কে জল দেয়?
উত্তর: কর্ণফুলী-ধলেশ্বরীকে বারুণী জল দেয়।

প্রশ্ন-৬১. জীবনানন্দ দাশ কত খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?
উত্তর: জীবনানন্দ দাশ ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন-৬২. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কোন কোন নদীর কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কর্ণফুলী, ধলেশ্বরী, পদ্ম নদীর কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-১. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে— সবচেয়ে সুন্দর করুণ’- এখানে ‘এক স্থান’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে সবচেয়ে সুন্দর করুণ’ এখানে ‘এক স্থান’ বলতে বাংলাদেশকে বোঝানো হয়েছে। কবির চোখে সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর মমতারসে সিক্ত, সহানুভূতিতে আর্দ্র ও বিষণ্ন দেশ বাংলাদেশ। পৃথিবীর সামগ্রিক সৌন্দর্যের আধার এই দেশ। অর্থাৎ কবিতায় ‘এক স্থান’ শব্দটি দিয়ে বাংলাদেশকেই নির্দেশ করা হয়েছে।

প্রশ্ন-২. ‘সেইখানে লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতো অস্ফুট, তরুণ- কেন?
উত্তর: এদেশকে অনুপম সৌন্দর্যে ভরিয়ে দিতে তরুণ ধানের গন্ধের মতো লক্ষ্মীপেঁচাও মিলেমিশে থাকে প্রকৃতির পরিবেষ্টনীতে। বাংলাদেশ প্রাণী আর প্রকৃতির ঐক্য ও সংহতিতে একাকার। লক্ষ্মীপেঁচা ধানের গন্ধের মতোই অস্ফুট হয়ে এদেশের প্রকৃতির বুকে মিলেমিশে থাকে। ফলে অকৃত্রিম সৌন্দর্যের আধার হয়ে ওঠে এদেশ।

প্রশ্ন-৩. বিশালাক্ষী বর দিয়েছিল কীভাবে?
উত্তর: বিশালাক্ষী অত্যন্ত স্নেহ, মায়া, সৌন্দর্য ও শ্যামলিমা দ্বারা বর দিয়েছিল । স্বর্গীয় সৌন্দর্যে গড়া বাংলাদেশকে বিশালাক্ষী স্নেহ, মায়া কোমলত্বের পরশে বর দিয়েছিলেন। আর শ্যামলিমার রঙিন পরিবেশ নিয়ে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ায়। দেবীর আশীর্বাদপুষ্ট এ দেশটি পূর্ণিমা রাতের চাঁদের স্নিগ্ধ আলোর মতো মায়ার বন্ধন তৈরি করে সবার মাঝে। তাই বলা যায় যে, বাংলাদেশেকে স্নেহ, মায়া, কোমলতা ও প্রেম দ্বারা বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলেন।

প্রশ্ন-৪. ‘সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে’ বলতে কবি কী “বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘সেখানে বারুণী থাকে গঙ্গাসাগরের বুকে’ বলতে কবি বাংলার নদীকে স্রোতস্বিনী করতে জলের দেবী বারুণীর অবদানকে বুঝিয়েছেন। ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কবি জীবনানন্দ দাশ বাংলার রূপসৌন্দর্য চিত্রায়িত করেছেন এক নিপুণ শিল্পীর তুলিতে। তিনি সমভাবে এদেশের নদ-নদীর ভরা যৌবনকে চিত্রায়িত করেছেন কাব্যিক ভাষায়। এদেশের প্রতিটি নদী ভরে থাকে স্বচ্ছতোয়া জলে। সে জল যেন ফুরায় না কখনোই। কেননা জলদেবতা বারুণী গঙ্গাসাগরে অবস্থান করে অনিঃশেষ জলধারা দিয়ে এদেশের অসংখ্য নদীকে স্রোতস্বিনী করে রাখে। আলোচ্য অংশে কবি জলের দেবী বারুণির এ ভূমিকাকেই বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন-৫. কবি কেন বাংলার প্রকৃতির বন্দনা করেছেন?
উত্তর: জন্মভূমির রূপ-মাধুর্যে বিমুগ্ধ হওয়ার কারণে কবি বাংলার প্রকৃতির বন্দনা করেছেন। প্রতিটি মানুষের সঙ্গে জন্মভূমির রয়েছে আত্মিক সম্পর্ক। এ কারণে জন্মভূমির যেকোনো সৌন্দর্যই মানুষকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। এ বিষয়টি কবির মাঝেও বিদ্যমান রয়েছে। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রকৃতির এমন লীলাভূমি পৃথিবীর কোথাও নেই। আর এ কারণেই তিনি বাংলার প্রকৃতির বন্দনা করেছেন।

প্রশ্ন-৬. কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল প্রভৃতি গাছের উল্লেখ করে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল হিজল প্রভৃতি গাছের উল্লেখ করে কবি বৃক্ষশোভিত বাংলাদেশকে বুঝিয়েছেন । পৃথিবীতে বাংলাদেশ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক মনমাতানো নিদর্শন। এ দেশে রয়েছে অসংখ্য গাছ যেমন – কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল ইত্যাদির সমাহার। এসব গাছ একদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও দেশকে রক্ষা করছে। উল্লিখিত গাছগুলোর নাম উল্লেখ করে কবি পৃথিবীর বুকে অনিন্দ্যসুন্দর বাংলাদেশের প্রকৃতিকে বুঝিয়েছেন।

প্রশ্ন-৭. হলুদ শাড়ি পরিহিতা শঙ্খমালা বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: হলুদ শাড়ি পরিহিতা শঙ্খমালা বলতে মাঠজুড়ে পাকা ফসলে ভরা বাংলার রূপকে বোঝানো হয়েছে। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষিপ্রধান বাংলার মাঠঘাট অপরূপ রূপে সজ্জিত হয়। অগ্রহায়ণে পাকা ধানে কিংবা শীতকালে সরষে ফুলে মাঠ ভরে থাকে। তখন মনে হয় যেন গোটা বাংলাদেশ হলুদ শাড়ি পরে হাসছে। এই অপার্থিব সৌন্দর্যকেই কবি হলুদ শাড়ি পরা শঙ্খমালা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

প্রশ্ন-৮. জীবনানন্দ দাশের কাব্যভাষাকে অপ্রতিম কবিভাষা বলা হয়েছে কেন?
উত্তর : জীবনানন্দ দাশের কাব্যভাষাতে জীবন ও জগতের রহস্য ও মাহাত্ম্য অন্বিষ্ঠ রয়েছে বলেই একে অপ্রতিম কবিভাষা বলা হয়েছে। এ পৃথিবীতে ব্যক্তিমানুষের নানামাত্রিক অনুভূতি ও নিঃসঙ্গতাকে জীবনানন্দ দাশ অতলান্তিক এক অনুভূতিতে আবিষ্কার করেছেন। এ ছাড়া তিনি ব্যক্তির যন্ত্রণা ও হাহাকারকে এক অন্য মাত্রা দান করেছেন স্বকীয় কাব্যভাষায়, যা আমাদের কাছে রহস্যাবৃত ও মাহাত্ম্যময়। এ কারণে তাঁর কাব্যভাষাকে অপ্রতিম কবিভাষা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-৯. ‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কবি কী ধরনের চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন?
উত্তর :‘এই পৃথিবীতে এক স্থান আছে’ কবিতায় কবি বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত চিত্রকল্প ব্যবহার করেছেন। এদেশের জনপদে, অরণ্যে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বৃক্ষ, গুল্ম ও লতা। তা ছাড়া নদনদীতে রয়েছে স্বচ্ছতোয়া জল। সন্ধ্যার অন্ধকার এদেশে এক রহস্যময় সৌন্দর্য নির্মাণ করে। এ বিষয়গুলোকেই জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় অন্য এক মাত্রায় নিয়ে গেছেন; যা এক অনন্য চিত্রকল্পের জন্ম দিয়েছে।

প্রশ্ন-১০. জীবনানন্দ দাশকে ‘নির্জনতম’ কবি বলার কারণ কী?
উত্তর : জীবনানন্দ দাশ তাঁর আবেগ প্রকাশে এক ধরনের অনির্বচনীয় শব্দ ব্যবহারে নিজেকে রহস্যময়তায় আবৃত রাখেন বলেই তাঁকে ‘নির্জনতম’ কবি বলা হয়েছে। কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর কবিতায় শব্দ ব্যবহার ও আবেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাধারণ কোনো রীতি অনুসরণ করেননি। বরং অপ্রচলিত শব্দে তিনি অপ্রচলিত এক ভাবের জন্ম দিয়েছেন, যা কবিতায় স্থানিক এক রহস্যময়তা সৃষ্টি করেছে। এই রহস্যময়তায় ঢাকা পড়ে জীবনানন্দের কাব্যবোধ সবার অগোচরে চলে গেছে বলেই আমরা তাঁকে নির্জনতম কবি হিসেবে অভিহিত করি।

প্রশ্ন-১১. জীবনানন্দ দাশ তাঁর জন্মভূমির রূপকে করুণ বলেছেন কেন?
উত্তর: কবির জন্মভূমি প্রকৃতির মমতারসে সিক্ত, সহানুভূতিতে আর্দ্র বলে তিনি এর রূপকে করুণ বলে অভিহিত করেছেন। কবির জন্মভূমি বাংলার প্রকৃতি অপরূপ বৈচিত্র্যে ভরা। প্রকৃতি যেন তার সমস্ত স্নেহ ঢেলে এদেশকে সাজিয়েছে। এদেশের গাঢ় সবুজের মায়া সৌন্দর্যপ্রেমিক কবিকে স্তব্ধ করে দেয়। প্রকৃতিতে তিনি এক বিষাদগ্রস্ত সৌন্দর্যের রূপ পরিগ্রহ করেন। এ কারণেই জন্মভূমির রূপ তাঁর কাছে করুণ বলে মনে হয় ।

প্রশ্ন-১২. জীবনানন্দ দাশ কবিতায় বিশালাক্ষীর প্রসঙ্গ এনেছেন কেন?
উত্তর: কবির জন্মভূমির অসামান্য রূপ যেন দেবীর ইচ্ছায় সৃষ্টি হয়েছে– এমন ভাবনা থেকেই তিনি কবিতায় বিশালাক্ষী অর্থাৎ দেবী দুর্গার প্রসঙ্গ এনেছেন। কবির জন্মভূমি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি। কবির চোখে এমন সৌন্দর্য পৃথিবীর আর কোথাও নেই। তাঁর মতে বিশালাক্ষী বর দিয়েছিলেন বলেই এ দেশে এমন অনুপম রূপবৈচিত্র্য সৃষ্টি হয়েছে। জন্মভূমির রূপের অসামান্যতা বোঝাতেই তিনি কবিতায় বিশালাক্ষীর কথা উল্লেখ করেছেন।

আশাকরি আজকের আর্টিকেল টি ভালো লেগেছে। ভালো লাগলে আমাদের সাথেই থাকুন, ধন্যবাদ।

About মেরাজুল ইসলাম

আমি মেরাজুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পাশাপাশি একজন ব্লগার। এডুকেশন এর প্রতি ভালোবাসাও অনলাইল শিক্ষার পরিসর বাড়ানোর জন্য এডুকেশন ব্লগের পথচলা। ব্লগিং এর পাশাপাশি আমি ওয়েবসাইট ডিজাইন, কন্টেন্ট রাইটিং, কাস্টমাইজ সহ ওয়েব রিলেটেড সকল কাজ করি।

Check Also

নেকলেস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর

আপনি কি নেকলেস গল্পের প্রশ্ন ও উত্তর খুজতেছেন? আজকের আর্টিকেল টি আপনাদের জন্য। আজকের আর্টিকেলে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *